মঙ্গলবার, ৩০ নভেম্বর ২০২১, ০৫:২২ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
NEWSS24 অনলাইন সংবাদ পত্রে আপনাকে স্বাগতম । বিজ্ঞাপনের জন্য আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন  । ধন্যবাদ

কুয়েতে ৫০তম বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী দিবস পালিত

নাসরিন আক্তার মৌসুমী
আপডেটের সময় : মঙ্গলবার, ২৩ নভেম্বর, ২০২১

Spread the love

 

কুয়েতের জন্য বাংলাদেশের জনগনের অন্তরে রয়েছে বিশেষ স্থান”- কুয়েতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল আশিকুজ্জামান হোটেল মিলেনিয়ামে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এ কথা উল্লেখ করেন।

৫০তম বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষ্যে প্রতিরক্ষা শাখা, বাংলাদেশ দূতাবাস কুয়েত কর্তৃক রোববার ২১ নভেম্বর সন্ধ্যায় স্থানীয় মিলেনিয়াম হোটেল কনভেনশন সেন্টারে এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আয়োজন করা হয়।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন কুয়েত সশস্ত্র বাহিনীর এসিস্ট্যান্ট চীফ অব স্টাফ, লজিস্টিকস এন্ড সাপ্লাই, মেজর জেনারেল খালেদ বেলাল আল ওবায়েদি।

অনুষ্ঠানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বিদেশি কূটনীতিক ও সামরিক অ্যাটাশেগণ, স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং বিদেশি অতিথিগণ সহ কুয়েতে বসবাসরত বাংলাদেশী প্রবাসীরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠান সঞ্চালক দূতাবাসে নিয়োজিত ডিফেন্স অ্যাটাশে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আবু নাছের স্বাগত বক্তব্য বলেন, সশস্ত্র বাহিনী দিবস শুধু বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের কাছেই নয় বরং বাংলাদেশের আপামর জনগণের কাছে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিবস জন্মলগ্ন থেকে আমাদের সশস্ত্র বাহিনী জনগণের সশস্ত্র বাহিনী হিসেবে পরিচিত। আর জনগণের কাজ থেকে আস্থা এবং এই স্বীকৃতি অর্জনে বিশেষ ভূমিকা রেখেছে।

হোটেল মিলেনিয়ামে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানটি দূতাবাসে নিয়োজিত ডিফেন্স অ্যাটাশে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আবু নাছের এর সঞ্চালনে অনুষ্ঠিত হয়। পবিত্র কুরআন থেকে পাঠের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ এবং কুয়েতের জাতীয় সঙ্গীত বাজানো হয় এবং স্বাগত বক্তব্য রাখেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাছের। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাছের তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে ‘সশস্ত্র বাহিনী দিবস শুধু বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের কাছেই নয়, বরং বাংলাদেশের আপামর জনগনের কাছ একটি অত্যন্ত গুরূত্বপুর্ন দিবস।

জন্মলগ্ন থেকে আমাদের সশস্ত্র বাহিনী জনগনের সশস্ত্র বাহিনী হিসাবে পরিচিত। আর জনগনের কাছ থেকে আস্থা এবং এই স্বীকৃতি অর্জনে বিশেষ ভূমিকা রেখেছে স্বাধীনতা যুদ্ধে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর অবদান”। ডিফেন্স এটাশের বক্তব্যের পরে মান্যবর রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল আশিকুজ্জামান তাঁর মূল্যবান বক্তব্যে কুয়েত এবং বাংলাদেশকে একটি ‘ষ্ট্র্যাটেজিক সম্পর্কের’ অংশীদার বলে উল্লেখ করেন। তিনি আরো বলেন যে এই দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ক অবিছেদ্য ও ইতিহাস নির্ভর। মান্যবর রাষ্ট্রদূতের পরে বক্তব্য রাখেন অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি মেজর জেনারেল খালেদ বেলাল আল ওবায়েদি। তিঁনি কুয়েতে নিয়োজিত বাংলাদেশ মিলিটারি কিন্টনজেন্ট এর প্রশংসা করেন।

কুয়েতে বাংলাদেশ মিলিটারি কিন্টনজেন্ট এর প্রশংসা করে মেজর জেনারেল খালেদ বেলাল ওবায়দী বেলালআল ওবায়েদ বলেন,শুধুমাত্র বাংলাদেশের ভৌগলিক পরিমণ্ডলেই নয় আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী আজ একটি সুপরিচিত নাম। জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ আজ বিশ্বের এক নাম্বার শান্তিরক্ষী বাহিনী প্রেরণকারী দেশ হিসেবে স্বীকৃতি। বর্তমানে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর ৬৪৫৮ জন শান্তিরক্ষী বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শান্তিরক্ষার কাজে নিয়োজিত রয়েছে এবং এ পর্যন্ত ৫৪টি জাতিসংঘ মিশনে মোট ১,৭৮,১১৯ জন অংশগ্রহণ করেছে। বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার মহান ব্রতে এ যাবৎ বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর ১৩৮ সদস্য জীবন উৎসর্গ করেছেন এবং২২৮ জন সদস্য পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় তাদের এই আত্মত্যাগ চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

১৯৯০/১৯৯১ সালে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর একটি বৃহৎ দল বহুজাতিক বাহিনীর অংশ হিসেবে অপারেশন “ডেজার্ট স্টর্ম ” অংশগ্রহণ করে।পরবর্তীতে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যগণ ১৯৯১ সাল হতে বন্ধুপ্রীতম কুয়েতের পুনর্গঠনে বিভিন্ন সহযোগিতা যেমন মাইন অপারেশন, মেডিকেল সার্ভিস, প্রশিক্ষক, প্রশাসনিক ইত্যাদি সহায়তা দিয়ে আসছে।অপারেশন কুয়েত পুনর্গঠন কার্যক্রম আলেম এযাবৎ বাংলাদেশী সশস্ত্র বাহিনীর ৮০ জন সদস্য তাদের জীবন উৎসর্গ করেছেন।

এই ঐতিহাসিক বিশেষ দিনে আমরা মহান আল্লাহতালার কাছে শুকরিয়া জ্ঞাপন করি।আমরা স্বশ্রদ্ধচিত্ত স্মরণ করি শেখ মুজিবুর রহমানকে। সেই সাথে আমরা স্বাধীনতা যুদ্ধ কুয়েত পড়ো পুনর্গঠন ও জাতিসংঘ মিশনে আত্মদানকারীদের মহান আল্লাহতালার কাছে মাগফিরাত কামনা।


আপনার মতামত লিখুন :    
এ জাতীয় আরো সংবাদ