ঢাকাThursday , 17 November 2022
  1. অন্যান্য
  2. অর্থ ও বানিজ্য
  3. আন্তর্জাতিক
  4. কুমিল্লা
  5. ক্রাইম নিউজ
  6. খেলাধুলা
  7. গণমাধ্যম
  8. চাঁদপুর
  9. জাতীয়
  10. বিনোদন
  11. বিভাগের খবর
  12. রাজনীতি
  13. রাজশাহী বিভাগ
  14. লিড নিউজ
  15. সর্বশেষ সংবাদ

অবিলম্বে ইউক্রেন যুদ্ধের সমাপ্তির দাবী জানালেন ড. ইউনূস

admin
November 17, 2022 10:02 am
Link Copied!

কলম্বিয়ার ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ ইউনিভার্সিটি এক্সটারনাডো ডি কলম্বিয়া (University Externado di Colombia) নোবেল লরিয়েট প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের আগমন উপলক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এক দিনব্যাপী জন-অনুষ্ঠানের আয়োজন করে যার বিষয়বস্তু ছিল সামাজিক ব্যবসার মাধ্যমে একটি অধিকতর সমতাভিত্তিক বিশ্ব গড়ে তোলা। চৌদ্দ হাজার ছাত্র-ছাত্রী নিয়ে ১৪০ বছরের প্রাচীন দেশটির অন্যতম শ্রেষ্ঠ এই বিশ্ববিদ্যালয়টি এরই মধ্যে ইউনূস সেন্টারের সাথে যৌথভাবে কর্মসূচি গ্রহণ করেছে এবং ২০১৯ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি “ইউনূস সোশ্যাল বিজনেস সেন্টার” প্রতিষ্ঠা করেছে।

দিনের মূল কর্মসূচি ছিল নোবেল শান্তি পুরস্কার জয়ী প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস এবং কলম্বিয়ার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ও নোবেল শান্তি পুরস্কার জয়ী হুয়ান ম্যানুয়েল সান্তোস এর মধ্যে দারিদ্র বিমোচন ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় সামাজিক ব্যবসার ভ‚মিকা শীর্ষক এক সুগভীর ও আকর্ষণীয় সংলাপ।

প্রফেসর অবিলম্বে ইউক্রেন যুদ্ধ সমাপ্তির আহŸান জানান এবং বলেন যে, COP ২৭-এর এটিই এখন একমাত্র আলোচ্য বিষয় হওয়া উচিত। যুদ্ধ-বিধ্বস্ত পৃথিবী এখন জলবায়ু সংকটের মত আরো গভীর সমস্যার দিকে মনোযোগ দেবার স্থলে যুদ্ধের অব্যবহিত ধ্বংসযজ্ঞের হাত থেকে নিজেকে রক্ষায় বাধ্য হচ্ছে।

তিনি বলেন, পৃথিবীর কাছে দীর্ঘমেয়াদী ভবিষ্যত নিয়ে চিন্তা করার কোনো সুযোগ নেই। এই যুদ্ধের প্রভাব থেকে পৃথিবীর কোনো ব্যক্তি বা দেশ মুক্ত নেই। এই যুদ্ধ দেশগুলির উপর বাড়তি অর্থনৈতিক ও সামাজিক চাপ সৃষ্টি করেছে এবং পৃথিবীর প্রতিটি দেশ বাধ্য হচ্ছে মানুষ, খাদ্য সরবরাহ ও অর্থনীতির উপর এই যুদ্ধের বিপুল প্রভাব মোকাবেলা করতে তার সম্পদ অন্যত্র ব্যয় করতে। এই যুদ্ধ COP ২৭-এর লক্ষ্যসমূহ থেকে অন্যত্র মনোনিবেশ করতে নীতি-নির্ধারকদের বাধ্য করছে।

প্রফেসর ইউনূস ব্যাখ্যা করেন কীভাবে একটি তিন শূন্য’র পৃথিবী Ñ অর্থাৎ শূন্য নীট কার্বন নিঃসরণ, দারিদ্র দূরীকরণের লক্ষ্যে শূন্য সম্পদ কেন্দ্রীকরণ এবং সকলের মধ্যকার উদ্যোক্তা-শক্তি অবারিত করার মাধ্যমে শূন্য বেকারত্বের একটি পৃথিবী সৃষ্টি করা সম্ভব যার মূল চালিকাশক্তি হবে তরুণ সমাজ।

প্রেসিডেন্ট সাস্তোস তাঁর সঙ্গে একমত পোষণ করে বলেন যে, তরুণরাই এ ধরনের একটি পৃথিবী গড়ে তোলায় মূল ভ‚মিকা পালন করতে পারে এবং তিনি তাঁর ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে আমাজনিয়া অঞ্চল এবং অন্যান্য এলাকাগুলিতে ইউনূস এনভায়ার্নমেন্টাল হাব – যা পরিবেশ ও চক্রাকার অর্থনীতিতে সামাজিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাচ্ছে Ñ সহ তরুণদের অন্যান্য সামাজিক ব্যবসা উদ্যোগকে সহায়তা করছেন। তাঁদের মধ্যকার এই ঘন্টাব্যাপী আলোচনার মূল বিষয়বস্তু ছিল একটি অধিকতর সমতাভিত্তিক পৃথিবী সৃষ্টির পূর্বশর্ত হিসেবে দারিদ্র দূরীকরণ, তরুণ উদ্যোক্তা ও সামাজিক ব্যবসা সৃষ্টি, জলবায়ু সংকট মোকাবেলা, অবিলম্বে ইউক্রেন যুদ্ধের সমাপ্তি ও শান্তি প্রতিষ্ঠা।

১৪০ বছরের সুপ্রাচীন ইউনিভার্সিটি এক্সটারনাডো ডি কলম্বিয়ার জন-অনুষ্ঠানে প্রায় ১,০০০ ব্যক্তি অংশ নেন যাঁদের মধ্যে ছিলেন সিভিল সোসাইটি প্রতিনিধি, কূটনীতিক, জাতি সংঘ কর্মকর্তা, ব্যবসায় উদ্যোক্তা যাঁরা সশরীরে বা অনলাইনে যোগ দেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র এবং শিক্ষকবৃন্দ। অনুষ্ঠান শুরু হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ডীন ও পরিচালকবৃন্দ এবং ইউনূস সোশ্যাল বিজনেস সেন্টারের পরিচালকের অভ্যর্থনাসূচক বক্তব্য দিয়ে। ইউনূস এনভায়ার্নমেন্টাল হাব প্রেসিডেন্ট সান্তোসের “কমপাজ ফাউন্ডেশন”-এর সাথে যৌথভাবে পরিচালিত প্রকল্পগুলির উপর একটি উপস্থাপনা করে। এছাড়া বার্লিন ভিত্তিক “ইউনূস সোশ্যাল বিজনেস,” যা কলম্বিয়ার বিভিন্ন এলাকায় ১২টি সামাজিক ব্যবসায়ে বিনিয়োগ করেছে, তার কর্মকান্ড তুলে ধরে।

এছাড়া প্রফেসর ইউনূস ও বোগোটার মেয়র ক্লডিয়া লোপেজের মধ্যে একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় যার বিষয়বস্তু ছিল বোগোটা ও অন্যান্য নগরীগুলিকে কীভাবে “তিন শূন্য’র নগরীতে” পরিণত করা যায়। মেয়র ক্লডিয়া প্রফেসর ইউনূসের ধ্যান-ধারণায় প্রভাবিত হয়ে বিশেষত নারীদের অগ্রগতি, ব্যবসায় উদ্যোগ ও সামাজিক ব্যবসা বিষয়ে তাঁর রূপকল্প ও বিভিন্ন কর্মকান্ড অভ্যাগতদের নিকট উপস্থাপন করেন।

ঐ দিনই প্রফেসর ইউনূস কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেট্রোর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা পেড্রো ফেরারী এবং দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ফ্রান্সিয়া মারকুয়েজের সাথে এক বৈঠকে মিলিত হন। ভাইস প্রেসিডেন্ট ফ্রান্সিয়া মারকুয়েজ, যিনি একজন আফ্রো-কলম্বিয়ান বংশোদ্ভূত নারী, কলম্বিয়ার দরিদ্র পরিবারগুলির জন্য একটি গ্রামীণ মডেলের ক্ষুদ্রঋণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠায় আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং এধরনের একটি ব্যাংক প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে এর অর্থায়ন, কর্মপদ্ধতি ও আইনগত কাঠামোসহ সঠিক পদক্ষেপ বিষয়ে প্রফেসর ইউনূসের পরামর্শ চান।

দিনের শেষে একটি পৃথক সেশনে ইউনিভার্সিটি এক্সটারনাডো ডি কলম্বিয়া গত তিন বছরে ইউনূস সেন্টারের সহযোগিতায় পরিচালিত ক্ষুদ্রঋণ, সামাজিক ব্যবসা, চক্রাকার অর্থনীতি ও সামাজিক ব্যবসার মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠার উপর তার ৫টি গবেষণা প্রকল্প উপস্থাপনা করে। ইউনূস সেন্টারের সাথে এই যৌথ কর্মসূচির অধীনে বৃত্তিপ্রাপ্ত দুজন তরুণ গবেষকও এই সভায় উপস্থিত ছিলেন। এই গবেষকরা নিজেরাই ব্যবসা উদ্যোক্তা যাঁরা একই সাথে সামাজিক ব্যবসার উপর ¯œাতক পর্যায়ের গবেষণা পরিচালনা করছেন।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।